🌸 সোনাপুরে কালীপুজোর উন্মাদনা: ভুটানের বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে মণ্ডপে নজর কাড়ছে ইউনাইটেড ক্লাব 🌸

চোপড়া ব্লকের বাংলা–বিহার সীমান্তবর্তী এলাকা সোনাপুরে এখন উৎসবের আমেজ। চারদিকে আলোর রোশনাই, ব্যস্ততা, আর কালীপুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সরগরম গোটা এলাকা। দুর্গাপুজোর জাঁকজমক এখানে তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হলেও, কালীপুজোই এখানকার প্রধান উৎসব — আর সেই উৎসবকে ঘিরেই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে।

সোনাপুর বাজার এলাকায় মোট আটটি বারোয়ারী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম সোনাপুর ইউনাইটেড ক্লাবের পুজো, যা প্রতিবছরই নিত্যনতুন থিম ও কারুকার্যে মানুষের নজর কেড়ে নেয়। এ বছর তাদের সর্বজনীন কালীপুজো পা দিচ্ছে ৬৫তম বর্ষে। বিশেষ এই বর্ষে ক্লাবের পক্ষ থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে এক মনকাড়া থিম — ভুটানের বৌদ্ধ মন্দির।
বাঁশের নিখুঁত কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই সুবিশাল মণ্ডপ। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মণ্ডপটির দৈর্ঘ্য ১৩৫ ফুট, প্রস্থ ১০০ ফুট এবং গম্বুজের উচ্চতা প্রায় ৩৬ ফুট। প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বাজেট নিয়ে গড়ে উঠছে এই থিমের মণ্ডপ। কারিগররা দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে দর্শনার্থীদের সামনে এক অনন্য সৃষ্টি উপস্থাপন করা যায়।
ক্লাবের এক সদস্য জানান, “প্রতি বছরই আমরা নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। থিমের সঙ্গে আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা চাই সোনাপুরের মানুষ আরও আনন্দে মেতে উঠুক।”
ভুটানের বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে তৈরি এই থিমের মণ্ডপ ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সন্ধ্যা নামতেই আলোর ঝলকে মণ্ডপের সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। আশেপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এই অনন্য কালীমণ্ডপটি একঝলক দেখার জন্য।
সোনাপুর এখন যেন এক আলোকিত তীর্থক্ষেত্র— ভক্তি, শিল্প আর আনন্দে ভরপুর।













