আলোর উৎসবের আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ চোপড়ার মৃৎশিল্পীদের

আলোর উৎসবের আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ চোপড়ার মৃৎশিল্পীদের

আলোর উৎসব দীপাবলি ঘনিয়ে আসতেই চোপড়ার মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দিনরাত এক করে তাঁরা তৈরি করছেন মাটির প্রদীপ। কানপুর, লখনউ, মহারাষ্ট্র সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ প্রদীপ পাঠানো হয়েছে কালাগছ ও চোপড়া এলাকা থেকে। তবু উৎসবের এই কর্মব্যস্ততার মাঝেও শিল্পীদের মুখে হাসির চেয়ে চিন্তার রেখাই বেশি।

চাহিদা থাকলেও, প্রদীপের দাম বহু বছর ধরেই একই রয়েছে — এই নিয়েই ক্ষোভ শিল্পীদের। বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়লেও মাটির প্রদীপের দাম যেন স্থির হয়ে আছে সেই পুরনো জায়গাতেই। ফলে শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তাঁরা।

চোপড়ার মৃৎশিল্পী পঞ্চানন পাল বলেন, “সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে — মাটি, রং, তেল, এমনকি জ্বালানিও। কিন্তু প্রদীপের দাম বাড়ে না। ফলে খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

একই সুর শিল্পী মীরা পালের গলাতেও। সাত বছর ধরে প্রদীপ তৈরি করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “হাজার প্রদীপের পাইকারি দাম মাত্র ৪০০ টাকা। এত কম দামে বিক্রি করলে লাভ থাকে না, তবুও প্রদীপ বানাতেই হয়। কারণ এটিই আমাদের জীবিকার একমাত্র উৎস।” এ বছরই তিনি প্রায় ৮০ হাজার প্রদীপ ভিনরাজ্যে পাঠিয়েছেন।

 

শিল্পীদের হিসাব অনুযায়ী, এখন প্রতি ট্রলি মাটি কিনতে খরচ হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। সেই সঙ্গে রং, জ্বালানি, পরিবহন—সব মিলিয়ে খরচের ভার ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু প্রদীপের দাম বাড়ছে না। ফলে মুনাফার অঙ্ক দিন দিন ক্ষীণ হচ্ছে।

 

চাহিদা থাকলেও এভাবে দাম না বাড়লে ভবিষ্যতে অনেকেই হয়তো এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কারিগররা। দীপাবলির আলোর আড়ালে তাই আজও থেকে যাচ্ছে মৃৎশিল্পীদের জীব

নের অন্ধকার।

Leave a Comment

और पढ़ें

Cricket Live Score

Corona Virus

Rashifal

और पढ़ें