বাঁশের সাঁকোতেই বন্দি জীবন—ডাঙ্গাপাড়ায় আজও অধরা স্বপ্নের সেতু

ডাঙ্গাপাড়া—নামটি উচ্চারণ করলেই যেন ঘুমের ঘোরে ভেসে আসে অসংখ্য মানুষের আর্তনাদ। ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর শহর থেকে অল্প দূরত্বেই অবস্থিত এই গ্রাম। ভোট আসে, ভোট যায়—প্রতিশ্রুতি শোনা যায় বারবার, কিন্তু বাস্তব বদলায় না ডাঙ্গাপাড়াবাসীর জীবনে।
স্বাধীনতার এত দশক পেরিয়েও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি সরু, জীর্ণ বাঁশের সাঁকো—যা পরিচিত ‘বাসের সাঁকো’ নামে। এই সাঁকোই যেন ডাঙ্গাপাড়ার জীবন-মৃত্যুর সীমারেখা। দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাসে বহু মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও অসুস্থ রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পারাপার করতে বাধ্য হন।
বর্ষা এলেই ভেঙে পড়ে সাঁকো। আবার গ্রামবাসীরাই চাঁদা তুলে নতুন করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। দুর্ঘটনা এখানে যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। তবুও বিকল্প পথ নেই, সেতু নেই—আছে শুধু অপেক্ষা।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর ডাঙ্গাপাড়াবাসীর দাবি শুনেছে রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ডাঙ্গাপাড়া সেতুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন বলে জানা যায়। এমনকি সেতুর টেন্ডারও হয়েছে—এমন কথাই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আজও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। সময় গড়িয়েছে, আশ্বাস ঝরে গেছে, কিন্তু সেতু অধরাই।
আজও বাঁশের সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে ডাঙ্গাপাড়াবাসী তাকিয়ে আছে ভবিষ্যতের দিকে। প্রশ্ন একটাই—কবে বাস্তবে রূপ নেবে তাদের বহু বছরের স্বপ্নের ডাঙ্গাপাড়া সেতু?












