আলো আর আনন্দের উৎসব দীপাবলির সময় যখন চারিদিকে শ্যামা মায়ের আরাধনায় ভক্তদের ব্যস্ততা, ঠিক তখনই উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের খয়েরপুরের পশ্চিম নোয়াবাদী গ্রামে এক অনন্য দৃশ্য দেখা যায়।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ কাসেম মিয়া গত ১৫ বছর ধরে শাস্ত্রসম্মত নিয়মে কালীপুজো করে আসছেন — এই ঘটনাই আজ এলাকার সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রায় পনেরো বছর আগে এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতার সূত্রেই এই পূজার সূচনা। কাসেম মিয়ার কথায়, এক রাতে স্বপ্নে মা ত্রিপুরা সুন্দরী তাঁকে দর্শন দিয়ে পূজা করার নির্দেশ দেন। সেই দিন থেকেই শুরু হয় তাঁর ভক্তিময় যাত্রা। প্রথমদিকে পারিবারিক পরিসরেই পূজা অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু ধীরে ধীরে এই পূজা পরিণত হয়েছে এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসবে।

এখন এই পূজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলেই একত্রিত হন। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মা-বোনেরাও কাসেম মিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পূজার নানা আয়োজনের দায়িত্ব ভাগ করে নেন। মণ্ডপে শোনা যায় আজানের ধ্বনি আর শাঁখের আওয়াজ একসাথে— যা যেন বার্তা দেয়,
“ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু ভক্তি আর মানবতা সবারই এক।”
কাসেম মিয়ার কালীপুজো আজ কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি এক মানবিক উদযাপন— যেখানে ভালোবাসা, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাই মূল
মন্ত্র।













