নিজস্ব সংবাদদাতা ইসলামপুর ,১৪ অক্টোবর: ইসলামপুরে অডিটোরিয়াম নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে শাসক দল।সম্প্রতি ইসলামপুরে বহু প্রতীক্ষিত অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে এই নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে। প্রায় আট কোটি টাকার প্রকল্প হলেও সাধারণ মানুষের একাংশ বলছেন, এই নির্মাণ নিয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে। বরাদ্দ সংক্রান্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ বোর্ড লাগানো হয়নি, এবং নির্মাণস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে উঁচু টিনের প্রাচীর দিয়ে, ফলে ভিতরে কী ধরনের কাজ চলছে তা দেখা যাচ্ছে না বাইরে থেকে। এতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষ ও সংস্কৃতি মহলের মধ্যে।
উল্লেখযোগ্য যে, ইসলামপুরের প্রাক্তন অডিটোরিয়াম “নেতাজি সুভাষ মঞ্চ” বহুদিন ধরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পাঁচ বছর আগে তা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। শহরের সাংস্কৃতিক মহলের দীর্ঘ আন্দোলনের পর রাজ্য সরকার অবশেষে নতুন করে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদার সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংস্কৃতি কর্মী থেকে সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ—নিম্নমানের নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং নির্মাণে স্বচ্ছতা নেই।
নির্মাণস্থলে উঁচু টিনের ঘেরাটোপ তৈরি করে পুরো এলাকা আড়াল করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এটি স্বচ্ছতার ঘাটতির ইঙ্গিত। তাঁরা বলছেন, ভীত নির্মাণের কাজ যদি নিম্নমানের হয়, তবে তা দেখার বা প্রতিবাদ জানানোর উপায় নেই। কারণ, কোনো নির্মাণ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠিত হয়নি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা নিয়মিত পরিদর্শনে থাকেন না, ফলে প্রকৃত মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই বিষয়ে মুখ খোলেননি ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান কানাইলাল আগরওয়াল। তবে শহরের বিশিষ্ট সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব সঞ্জীব বাগচী প্রশ্ন তুলেছেন, “নির্মাণ কাজ এতটা গোপনে কেন? শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে, আর শহরবাসী তা দেখতে পাবে না—এটা কেমন কথা?” তিনি আরও বলেন, “যদি একটি নির্মাণ কমিটি গঠিত হত, যেখানে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, বাস্তুকার ও সংস্কৃতি মহলের প্রতিনিধিরা থাকতেন, তাহলে কাজটি আরও স্বচ্ছভাবে হত।”
এ বিষয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, যেমন প্রসুন শিকদার, দ্বিজেন পোদ্দার এবং ভবেশ দাস। তাঁদের মতে, এই ধরনের গোপনীয়তা দুর্নীতির আশঙ্কা বাড়ায়।
রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিপিএম নেতা রঘুপতি মুখার্জি অভিযোগ করেছেন, “চুরি যাতে নির্বিঘ্নে করা যায়, সেই জন্যই ঘেরাটোপ দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এই সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়, এবং সর্বত্র চোর তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ইসলামপুরের এই অডিটোরিয়াম নির্মাণ তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।”
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বাস্তুকার রনি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এভাবে ঘেরাও করে কাজ করার মূল কারণ চুরির সম্ভাবনা এড়ানো। নির্মাণ সামগ্রী যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেইজন্যই এই ব্যবস্থা। তবে কেউ যদি নির্মাণ কাজ দেখতে চান, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা দেখাতে পারি। জনে জনে গিয়ে কাজ দেখানো সম্ভব নয়।”
সবমিলিয়ে, ইসলামপুরের এই বহুল প্রতীক্ষিত প্রকল্পের স্বচ্ছতা, গুণমান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। নির্মাণ যদি সত্যিই জনস্বার্থে হয়, তবে তা নিয়ে গোপনীয়তা রাখার কারণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকে। শহরের মানুষের প্রত্যাশা, অডিটোরিয়াম নির্মাণ কাজ হোক যথাযথ, স্বচ্ছ ও যথাযথ মান বজায়
রেখে।













