সুমন লিন্ডা — এক আশাকর্মীর অসাধারণ সাহসের গল্প

🌸 সুমন লিন্ডা — এক আশাকর্মীর অসাধারণ সাহসের গল্প

আমাদের রাজ্যে হাজার হাজার আশাকর্মী দিনরাত মানুষের সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু তাঁদের ভিড়ে এক নাম আজ আলাদা করে উঠে এসেছে — সুমন লিন্ডা।

বাড়ি তাঁর নাগরাকাটার খেরকাটা গ্রামে। পেশায় একজন সাধারণ আশাকর্মী হলেও, তিনি যা করেছেন, তা জানলে আপনিও স্যালুট না করে পারবেন না।

 

🌊 ভয়াবহ বন্যার রাত

 

তারিখটা ছিল ৪ ও ৫ অক্টোবরের ভয়াবহ রাত। নাগরাকাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা তখন বন্যায় তছনছ হয়ে গিয়েছে। চারিদিকে জল, ভাঙা রাস্তা, বন্ধ যোগাযোগ।

সেই বন্যায় সুমনের নিজের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্বামী ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছে, ঘরে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা — কিন্তু তবুও দায়িত্বের ডাকে সাড়া দিতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি তিনি।

 

🚨 রাত দেড়টার ফোন

 

রাত তখন প্রায় দেড়টা। হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে সুমনের মোবাইলে।

খবর আসে — খেরকাটার এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার।

 

সুমন জানতেন, বাইরে বেরোনো মানে তখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া।

চারদিক ঘন জঙ্গল, অন্ধকার রাত, চিতাবাঘ ও হাতির ভয় — তার উপর বিদ্যুৎ নেই, রাস্তাঘাট সব বন্যার জলে ডুবে রয়েছে।

তবুও তিনি থামেননি।

 

🚶‍♀️ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে সাহসী অভিযাত্রা

 

অন্ধকার রাতে কয়েক কিলোমিটার জংগলের মধ্যে দিয়ে হাতি ও চিতা বাঘের ভয় কে উপেক্ষা করে হেঁটে পৌঁছে যান ওই অন্তঃসত্ত্বার বাড়িতে।

তারপর বহু কষ্টে একটি গাড়ি জোগাড় করে মহিলাকে নিয়ে আসেন টন্ডু গ্রাম পর্যন্ত।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় — কারণ ডায়না ও গাঠিয়া নদীর সেতু বন্যায় ভেঙে গেছে, ফলে গাড়ি আর এগোতে পারছে না।

 

⛑️ এনডিআরএফ ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সহযোগিতা

 

নদীর ধারে এসে সুমন দেখতে পান এনডিআরএফ কর্মীরা টহল দিচ্ছেন। তিনি পুরো বিষয়টি জানান।

সুমনের সাহস ও দৃঢ়তায় অনুপ্রাণিত হয়ে এনডিআরএফ দল ঝুঁকি নিয়ে রাতেই স্পিডবোটে করে নদী পার করায় তাঁদের।

 

অন্যদিকে, সুমনের ফোন পেয়ে নাগরাকাটার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ইরফান মোল্লা ততক্ষণে নদীর এপারে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাজির।

নদী পার হয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বাকে প্রথমে সুলকাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে, সেখান থেকে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

👶 নতুন জীবনের জন্ম

 

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই হাসপাতালে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

মা ও মেয়ে দুজনেই সুস্থ। নবজাতিকার নাম রাখা হয় — ‘বন্যা’, কারণ তাঁর জন্ম এক ভয়াবহ বন্যার রাতে।

 

মায়ের মুখে হাসি দেখে সুমন তবেই শান্তি পান।

ক্লান্ত শরীর, ভেজা কাপড়, কিন্তু মুখে এক অদম্য তৃপ্তি — তিনি জানেন, তাঁর প্রতিটি কষ্ট সার্থক।

 

🏅 রাজ্যের গর্ব, আমাদের প্রেরণা

 

সুমনের এই অসাধারণ মানবিক কাজের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তিনি শুধু একজন আশাকর্মী নন — তিনি এক জীবন্ত উদাহরণ, যাঁর সাহস, নিষ্ঠা ও মানবিকতা আজ সকলের জন্য অনুপ্রেরণা।

 

সুমন লিন্ডা আমাদের গর্ব। সুমন লিন্ডার মতো নারীদের কুর্নিশ জানায় পশ্চিমবঙ্গ বার্তা ডিজিটালের পুরো টিম। ভালো থাকুন সুমন লিন্ডা🙏💐

Leave a Comment

और पढ़ें

Cricket Live Score

Corona Virus

Rashifal

और पढ़ें