মৈথিলী ঠাকুর (Maithili Thakur) — ভারতের সর্বকনিষ্ঠা নতুন বিধায়ক

মৈথিলী ঠাকুর (Maithili Thakur) — ভারতের সর্বকনিষ্ঠা নতুন বিধায়ক ।


জন্ম: ২৫ জুলাই, ২০০০।

জন্মস্থান: বিহার রাজ্যের মধ্য মাধুবনী (Madhubani) জেলা।

পিতা-মাতা: পিতা — রমেশ ঠাকুর (সঙ্গীতজ্ঞ) ; মাতা — ভারতী ঠাকুর।

ভাইবোন: তার দুই ভাই আছেন — রিশভ ঠাকুর ও আয়াচি ঠাকুর।

 

সঙ্গীত জীবন

মৈথিলী ঠাকুর ছোটবয়স থেকেই সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর পিতা ও দাদু তাঁকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং মৈথিলী ও লোকসঙ্গীত-রীতি শিখিয়েছেন।

তিনি যন্ত্র হিসেবে গলায় পাশাপাশি হারমোনিয়াম, তাবলা ইত্যাদি বাজাতে ভালোবাসেন।

তাঁর গানের ধরন (genres) ভারি বৈচিত্র্যময় — মৈথিলী, ভোজপুরী, হিন্দি লোকসঙ্গীত, ক্লাসিক্যাল, ভজন, Ram–Sita গীত, চৈতি, হরী ইত্যাদি।

প্রতিযোগিতামূলক গায়কী ও জনপ্রিয়তা

মাত্র ১১ বছর বয়সে (প্রায়) Sa Re Ga Ma Pa Little Champs-এ অংশ নিয়েছিলেন।

পরে তিনি Indian Idol Junior-এ গাওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন।

২০১৬-তে iGenius Young Singing Star প্রতিযোগিতা তিনি জিতলেন।

২০১৭-এ “Rising Star” শো-তে রানার-আপ হন, মাত্র দুই ভোটে জয় মিস করেছিলেন।

সঙ্গীত-মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক ছড়িয়ে পড়েন: তাঁর ইউটিউবে মিলিয়ন-মিলিয়ন ভিউ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার।

সম্মান ও পুরস্কার

মিথিলা সংস্কৃতি ও সঙ্গীত প্রচারের জন্য তাঁকে আতল মিথিলা সম্মান দেওয়া হয়েছে।

২০২১-এ “লোকমত সূর জ্যোত্স্না ন্যাশনাল মিউজিক অ্যাওয়ার্ড” (Lokmat Sur Jyotsna National Music Award) পেয়েছিলেন।

 

রাজনৈতিক জীবন

পক্ষ: ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।

রাজনৈতিক পদ: ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হন এবং আলিনগর (Alinagar) বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনে লড়াই করেন।

নির্বাচনে তিনি বিপুলভাবে জয়ী হন — প্রায় ৮৪,৯১৫ ভোট পান এবং ১১,০০০+ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

এই জয়ের মাধ্যমে তিনি বিহারের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক (youngest MLA) হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান।

তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল:

আলিনাগরকে “সীতানগর” (Sitanagar) নামে পুনর্বিন্যাস (নাম পরিবর্তন) করার ইচ্ছা।

মিথিলা চিত্রকলাকে স্কুল-শিক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়ন এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান।

 

 

ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গা

প্রার্থী হিসেবে মৈথিলী বলেন যে, তাঁর উদ্দেশ্য “বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চালিয়ে নেওয়া” এবং “লোকসংগীত ও মিথিলা সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজে আরও প্রভাববিস্তার করা”।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে তাঁর বয়স এবং নতুনত্ব তাকেuatan দেবে; তিনি দাবি করেছেন, ২৫ বছর বয়সেও তিনি “অনেক দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারবেন”।

 

গুরুত্ব এবং প্রভাব

মৈথিলী ঠাকুর শুধুমাত্র সঙ্গীতজগতের তারকা নন, বরং তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ দেখাচ্ছে যে কিভাবে সাংস্কৃতিক শিল্পীদের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে তরুণ এবং সংবেদনশীল নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তাঁর নির্বাচনী জয় বিজেপির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ আলিনাগর কেন্দ্রটি বিজেপির জন্য আগে খুব চ্যালেঞ্জিং হিসেবে ধরা হত।

তাঁর পরিকল্পনাগুলো (যেমন মিথিলা পেইন্টিং স্কুলে, সীতানগর নামকরণ) মিথিলাঞ্চল (Mithilanchal) অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ভূতত্ব ও ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

और पढ़ें

Cricket Live Score

Corona Virus

Rashifal

और पढ़ें